জরুরী অক্সিজেন হোম ডেলিভারি

করোনা আতঙ্কে অনলাইনে অক্সিজেন সিলিন্ডার কেনার রীতিমতো হিড়িক পড়ে গেছে। হাসপাতালে চিকিৎসা না মেলায় বাড়িতে চিকিৎসাধীন করোনা রোগীরা ব্যাপকভাবে অক্সিজেন সিলিন্ডার ব্যবহার করছেন।

প্রচুর চাহিদার কারণে হোম সার্ভিসে অক্সিজেন ডেলিভারির বেশকিছু প্রতিষ্ঠানও রাতারাতি গজিয়ে উঠেছে। আকাশছোঁয়া দামে বিক্রি হচ্ছে একেকটি সিলিন্ডার। অনেকে কিনতে না পেরে স্বজন বাঁচাতে তড়িঘড়ি ভাড়ায় নিচ্ছে অক্সিজেন সিলিন্ডার।

সিলিন্ডারের পাশাপাশি পোর্টেবল অক্সিজেন ক্যান, পোর্টেবল ভেন্টিলেটর ও দেহের অক্সিজেন লেভেল পরিমাপের জন্য পালস অক্সিমিটার নামের ছোট একটি যন্ত্র অনলাইনে বিক্রির শীর্ষে রয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ ছাড়াই অক্সিজেন সিলিন্ডারের ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবহারে প্রাণহানির শঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসাসংশ্লিষ্টরা।

রাজধানীতে সক্রিয় অক্সিজেন সিলিন্ডার হোম ডেলিভারির অন্তত ১০টি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এ প্রতিবেদকের কথা হয়। তাদের প্রায় সবাই বলছেন, এপ্রিল মাস থেকে তাদের কাছে সিলিন্ডারের বাড়তি চাহিদা আসতে থাকে।

মে মাসের মাঝামাঝি থেকে চাহিদা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, এখন ডেলিভারি দিতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে। স্টক ফুরিয়ে যাওয়ায় অনেকে হোম ডেলিভারি সেবা বন্ধ রেখেছেন। কেউ কেউ একেকটি সিলিন্ডার বিক্রি করছেন বাজার মূল্যের চেয়ে তিন-চারগুণ বেশি দামে।

চিকিৎসাসংশ্লিষ্টরা বলছেন, অক্সিজেন সিলিন্ডারগুলো কোথা থেকে আমদানি করা হচ্ছে বা এগুলো মেয়াদ উত্তীর্ণ কিনা তা যাচাই ছাড়াই বাজারজাত করা দণ্ডনীয় অপরাধ। চাহিদার কারণে খোলাবাজারে এভাবে ঢালাও অক্সিজেন সিলিন্ডার বিক্রি করা কোনোভাবেই উচিত নয়। তাছাড়া বাড়িতে অক্সিজেন সিলিন্ডার রাখার ফলে অগ্নিকাণ্ডের বড় ধরনের ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে।

এদিকে কোভিড হাসপাতালগুলোতে অক্সিজেন সংকটের কথা বলছেন করোনা আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন রোগীরা। তীব্র শ্বাসকস্টের সময় হাইফ্লো অক্সিজেন দরকার হলেও বেশির ভাগ সময় হাসপাতালে তা মিলছে না।